Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
সংগীতের রাজেন্দ্রাণীর বিদায়
বর্তমান প্রতিবেদক : উপমহাদেশের সংগীতের রাজেন্দ্রাণী তিনি। সংগীতের সব শাখাতেই ছিল তার অবাধ পথচলা। নজরুলের গানের প্রসঙ্গ এলেই ভেসে ওঠে তার ছবি। স্বর ও সংগীতে সাত দশকেরও বেশি সময় কাটিয়ে ব্যক্তি থেকে তিনি পরিণত হয়েছিলেন সংগীতের সুললিত অনুবাদে। সেই ফিরোজা বেগম আর নেই।
মঙ্গলবার রাত ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি এ শিল্পী (ইন্না লিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি তিন ছেলে তাহসিন, হামিন ও শাফিন আহমেদসহ বহু ভক্ত-অনুরাগী-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ফিরোজা বেগমের বড় ছেলে হামিন আহমেদ বলেন, ‘আম্মা (ফিরোজা বেগম) মঙ্গলবার রাত ৮টা ২৮ মিনিটে মারা গেছেন। বুধবার বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তার দাফন হবে।’ তার মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া শোক জানিয়েছেন।
ছোট ছেলে শাফিন আহমেদ জানান, ফিরোজা বেগম দীর্ঘদিন ধরে হূদযন্ত্র ও কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। নিয়মিতভাবে তার কিডনি ডায়ালিসিসও করা হতো। গত শুক্রবারও ডায়ালিসিসের জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল তাকে। তবে তার আগেই ধরা পড়ে হেপাটাইটিস-বি রোগ। পরে সোমবার তার হূদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়। তার সবকিছুই যন্ত্রের মাধ্যমে চলছিল। তিনি চিকিত্সকদের চিকিত্সাতেও সাড়া দিচ্ছিলেন না। তিনি এ্যাপোলো হাসপাতালের নেফ্রোলজি ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর অ্যান্ড সিনিয়র কনসালট্যান্ট কৃষ্ণ মোহন সাহুর তত্ত্বাবধানে চিকিত্সাধীন ছিলেন।
১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরে জন্ম নেন ফিরোজা বেগম। আইনজীবী পিতা খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল ও সংগীতানুরাগী মা কওকাবন্নেসার সন্তান ফিরোজাকে ছোটবেলা থেকেই পেয়ে বসে সুরের নেশা। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়েই অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গেয়ে সাড়া ফেলেছিলেন ফিরোজা। মাত্র ১২ বছর বয়সে নামজাদা গ্রামোফোন কোম্পানি এইচএমভি থেকে তার রেকর্ড প্রকাশ হয়। পেয়েছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলামের দুর্লভ সান্নিধ্য। স্বয়ং জাতীয় কবির কাছ থেকে গানের তালিম নিয়েছেন। মুগ্ধ করেছেন গান শুনিয়েও।
নজরুলসংগীতকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেয়ার পিছনে রয়েছে তার অসামান্য অবদান। বিদ্রোহী কবির গানকে ‘নজরুলসংগীত’ নামকরণের পিছনে তিনি রেখেছেন ভূমিকা। তার গান দিয়েই প্রথম নজরুলসংগীতের একক লং প্লে¬ প্রকাশ শুরু করে। কবি নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর ফিরোজা বেগমই নজরুলসংগীতের প্রথম স্বরলিপিকার। নজরুলসংগীতের শুদ্ধ স্বরলিপি ও সুর সংরক্ষণের জন্য তাকে করতে হয়েছে কঠিন সংগ্রাম। নজরুল ইনস্টিটিউট তৈরি হয়েছিল তারই ভাবনায়, যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ইনস্টিটিউটে জায়গা হয়নি তার।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ পর্যন্ত ৩৮০টির বেশি একক অনুষ্ঠানে গান করেছেন তিনি। নজরুলসংগীত ছাড়াও তিনি গেয়েছেন আধুনিক গান, গীত, গজল, কাওয়ালি, ভজন, হামদ ও নাত। এ পর্যন্ত তার ১২টি এলপি, চারটি ইপি, ছয়টি সিডি ও ২০টির বেশি অডিও ক্যাসেট বেরিয়েছে। নজরুলসংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশে-বিদেশে পেয়েছেন নানা পুরস্কার— স্বাধীনতা পদক (১৯৭৯), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি স্বর্ণপদক, সেরা নজরুলসংগীতশিল্পী পুরস্কার (টানা কয়েকবার), সত্যজিত্ রায় পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র পুরস্কার, নজরুল আকাদেমি পদক ইত্যাদি। এ ছাড়াও জাপানের অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিবিএস থেকে পেয়েছেন গোল্ড ডিস্ক। ১৯৫৫ সালে বিখ্যাত সুরকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে তার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। হামীন ও শাফিন আহমেদ দুই ভাই-ই দেশের ব্যান্ড সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র।
(সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৪)