Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সারাদেশ
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
কমছে পানি, ভাঙছে জনপদ
বর্তমান প্রতিবেদক : দেশের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। যেসব এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল সে সব এলাকার পানি নামছে। আর এ সময় সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বর্তমানের গাইবান্ধা, মানিকগঞ্জ ও শেরপুর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন ওসব এলাকার ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। রাস্তায়, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। অনেক জায়গা-সম্পত্তির মালিকদের অনেকে দিনমজুরির কাজ শুরু করেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। এবারের বন্যা নিঃস্ব করে গেছে অনেক পরিবারকে। এসব ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সরকারি বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। বেসরকারি সহায়তা তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলে প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। 
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাঘাটার বিভিন্ন পয়েন্টে যমুনায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত তিনদিনে হলদিয়া, ভরতখালি ও সাঘাটা ইউনিয়নে শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া আরও দুশতাধিক ঘরবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। নদী ভাঙনে গৃহহারা পরিবারগুলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ অথবা অন্য উঁচু এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নিয়ে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সাঘাটার গোবিন্দপুর, পাতিলবাড়ি, গাড়ামারা, হলদিয়া ও গোবিন্দি এলাকা জুড়েই এই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে গাড়ামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা-যমুনার তীরবর্তী এলাকায় আবার ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। পদ্মার অব্যাহত তীব্র ভাঙনে শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণরূপে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের দরিকান্দি ও মান্দ্রাখোলা গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি তিনদিনের ব্যবধানে পদ্মায় বিলীন হয়েছে। পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনসহ নিকটস্থ ঘরবাড়ি বিলীনের অপেক্ষায় রয়েছে। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, জিয়নপুর, চরকাটারি, শিবালয় উপজেলার শিবালয়, তেওতা, আরুয়া, ঘিওরের পয়লা, বানিয়াজুরি, বালিয়াখোড়া, হরিরামপুর উপজেলার কাঞ্চনপুর, লেছরাগঞ্জ, বালা, আজীমনগর, রামকৃষ্ণপুর প্রভৃতি ইউনিয়নের পদ্মা-যমুনা ও শাখা নদীর তীরবর্তী এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
শেরপুর প্রতিনিধি জানান,  খাদ্যশস্যে উদ্বৃত্ত জেলা শেরপুরে গত তিন সপ্তাহের বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সদ্যরোপিত আমন এবং ৪৪ হাজার হেক্টর জমির শাকসবজি ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে আর টাকার হিসেবে যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী, কামারের চর, চর মোচারিয়া, বেতমারী ঘুঘরাকান্দি ইউনিয়ন, শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ও কেকেরচর, নকলা উপজেলার চর অষ্টাধর ও চন্দ্রকোনা এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার বাগবেড় ইউনিয়ন। এসব এলাকার সদ্যরোপণ করা আমন ধানের পাশাপাশি পটোল, বেগুন, লাউ, ঝিঙ্গা, ঢেঁড়স, পুঁইশাক, লালশাকসহ শীতের জন্য আগাম রোপণ করা ফুলকপি ও বাঁধাকপির আবাদ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
(এইচআর/সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৪)