Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
‘অভিশংসন নয় অপসারণের ক্ষমতা ফিরছে সংসদে’
সংসদ প্রতিবেদক : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, স্বার্থান্বেষী মহল এমনভাবে অপপ্রচার করছে যাতে মনে হচ্ছে সরকার কোর্টকে নিয়ন্ত্রণ করতেই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দিচ্ছে। কিছু দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ নেতারাও এতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, অভিশংসন নয়, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরছে।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে প্রেস বিফ্রিংয়ে এ কথা বলেন। রবিবার সংসদে উত্থাপিত বিচারপতিদের অভিসংশন সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত ‘সংবিধান  (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিল নিয়ে আজও বৈঠক করবে সংসদীয় কমিটি।
সুরঞ্জিত সেন আরও জানান, উচ্চ আদালতের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং আদালতের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্যই সংবিধান সংশোধনী বিলটি আনা হয়েছে। কমিটির সভাপতি বলেন, এখানে অভিশংসনের কোনো প্রশ্নই নেই। অভিশংসন শুধু রাষ্ট্রপতির জন্য। তাও কেবল রাষ্ট্রপতি যদি গুরুতর অসদাচরণ কিংবা সংবিধান লঙ্ঘন করেন। যারা এটা (অপপ্রচার) করছেন, তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দুরভিসন্ধিমূলক কথা বলছেন।
বিলটি পাস হলে সংসদ বিচারকদের ব্যাপারে কিছুই করতে পারবে না। তাহলে এটা নিয়ে এতো হায় হায় করার কী আছে?  ’৭২-’৭৫ এ হয়নি এখনও একই অবস্থা হবে। প্রমানিত অসদাচারণের দায়েই কিছু হলে হবে।
সংসদে উত্থাপিত বিলের প্রতি ইঙ্গিত করে সুরঞ্জিত বলেন, এখানে (বিলে) রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের অপসারণের কথা বলা হয়েছে; কিন্তু তারা তো নির্বাচিত প্রতিনিধি, আর বিচারপতিরা নিয়োগপ্রাপ্ত। আর অপসারণ সব বিচারপতির নয়, যারা অসদাচরণ করবেন কিংবা অসামর্থ্য হবেন তাদের অপসারণ। তাদের হাত থেকে বিচার বিভাগ বাঁচতে চায়। যে কাজ করতে পারে না, তাকে কি রাখা উচিত্? পাগলকে রাখতে হবে? যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা আগেই পদত্যাগ করে চলে যেতে পারবেন।
সুরঞ্জিত বলেন, কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ ওঠে তাহলেই কি তাকে অপসারণ করা হবে? তা নয়। এর জন্য ফলোআপ আইন হবে। ওই আইনে তদন্ত কমিটির বিধান থাকবে। সংশ্লিষ্ট, দায়িত্বশীল, প্রাসঙ্গিক লোকদের দিয়ে করা হবে। তারা সংসদে বিষয়টি পাঠালে সংসদ শুধু অনুমোদন দেবে। অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির। তিনিই নিয়োগ দেন, সরাবেনও তিনি।
সুরঞ্জিত বলেন, বিলটি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞসহ স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেয়া হবে কি না এ ব্যাপারে সরকারের মতামত চাওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী সেটি আজ বুধবার কমিটিকে অবহিত করবেন।
বিলটি পাস হওয়ার পর বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে যে কমিটি গঠন করা হবে তার সদস্য কারা হবেন জানতে চাওয়া হলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন,  এ বিষয়ে আইন করতে হবে।
প্রস্তাবনা বাদ দেয়া হবে
সংসদে উত্থাপিত বিলের ‘প্রস্তাবনা’ অংশ বাদ দেয়ার ব্যাপারে সংসদীয় কমিটির সব সদস্য একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সুরঞ্জিত। ছোট্ট সংশোধনী, এতবড় প্রস্তাবনার দরকার নেই। এর আগে শুধু ১২ ও ১৩তম সংশোধনীতে প্রস্তাবনা ছিল। এখানে প্রস্তাবনা অসঙ্গতিপূর্ণ ও অসাঞ্জস্যপূর্ণ। এটি বাদ দিতে আমরা সবাই একমত হয়েছি।
কমিটি সূত্র জানিয়েছে, আজই বিলটি চূড়ান্ত করা হবে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিলের রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে। কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, আবদুল মতিন খসরু, সাহারা খাতুন, শামসুল হক টুকু, আব্দুল মজিদ খান, তালুকদার মো. ইউনুস, এড. মো. জিয়াউল হক মৃধা এবং সফুরা বেগম অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লি¬ষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
(সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৪)