Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
বাংলাদেশ-ভারত সমঝোতা স্মারক সই
কূটনৈতিক প্রতিবেদক : ভারতের সঙ্গে সনাতন ওষুধের লেনদেন সম্পর্কিত একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ সমঝোতায় বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজউদ্দিন এবং ভারতের সিদ্ধা ও হোমিওপ্যাথি বিভাগের সচিব নীলাঞ্জন সান্যাল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পর্যায়ে মন্ত্রীদের বৈঠক উপলক্ষে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত সম্মেলনে মঙ্গলবার এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এই সমঝোতা সইয়ের জন্য সোমবার ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা আসেন।
সমঝোতা স্মারকের ফলে, দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের প্রথাগত ওষুধের কাঁচামাল আদান-প্রদান করা যাবে। দুই দেশেই প্রথাগত ওষুধের কাঁচামাল রয়েছে। এসব উপকরণের লেনদেনের পথ খুলল এ চুক্তির মাধ্যমে। প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য উভয় দেশের আইন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ, দক্ষ চিকিত্সক আদান-প্রদান হবে। এ ছাড়া স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার জন্য বৃত্তি এবং একটি একাডেমিক চেয়ার স্থাপনের ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশ বেশি উপকৃত হবে। ফলে এখানকার শিক্ষকরা ভারতে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে পারবে এবং প্রশিক্ষিত হতে পারবে। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫১টি হোমিওপ্যাথিক কলেজ রয়েছে। এ সব কলেজ থেকে শিক্ষকরা ভারতে প্রশিক্ষণের জন্যে যেতে পারবে। হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা জনপ্রিয় হওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তাদের আগের মেয়াদে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৯৪ জন চিকিত্সক নিয়োগ দিয়েছে।
এদিকে প্রচলিত ওষুধ তৈরির পদ্ধতি ও হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিষয়ে সহযোগিতায় ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ায় বাংলাদেশই লাভবান হবে বলে মনে করছেন এই দুই ধরনের চিকিত্সার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, প্রাকৃতিক চিকিত্সা পদ্ধতি এবং হোমিওপ্যাথি— দুই ধরনের চিকিত্সার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে ভারত। সমঝোতা স্মারকের পর দুই দেশের মধ্যে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, বিশেষজ্ঞ বিনিময়সহ নানা বিষয়ে সহযোগিতা পাওয়ার দুয়ার বাংলাদেশের জন্য খুলে যাবে।
‘আয়ুর্বেদ’ নামে পরিচিত প্রাকৃতিক ওষুধে ভারতের রয়েছে সমৃদ্ধ প্রাচীন ইতিহাস। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাও অনেকদিন ধরে রোগ নিরাময়ে এ ধরনের চিকিত্সা পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মঙ্গলবার ঢাকায় সংস্থার আঞ্চলিক বৈঠকের আলোচনায়ও গুরুত্ব পেয়েছে বিষয়টি।
প্রাকৃতিক চিকিত্সা পদ্ধতি বিষয়ে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য গত জুনে ভারতের আয়ুশের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে গেছে। সবশেষ কয়েকদিন আগেই ভারতের মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের অনুমোদন দেয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে স্মারকটি সই হয়।
(সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৪)