Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
তিস্তা চুক্তি হবে : সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদ প্রতিবেদক : ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তিস্তা চুক্তি এখনও সম্পাদন করা সম্ভব হয়নি। তবে উভয় দেশের পানি সম্পদ সচিব পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিস্তার পানি বণ্টন সংক্রান্ত একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করা রয়েছে। আগামীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ।
সংসদে একেএম মাইদুল ইসলামের  লিখিত (কুড়িগ্রাম-৩) প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে একথা জানান। সংসদে মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, সরকার তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদনে অত্যন্ত আন্তরিক এবং তত্পর। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়। একই বছর অনুষ্ঠিত ৩৭তম যৌথ নদী কমিশন বৈঠকে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। এ বৈঠকে উভয় দেশের পানি সম্পদ সচিব পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিস্তার পানি বণ্টন সংক্রান্ত একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়; কিন্তু ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে চুক্তিটি এখনও সম্পাদন করা সম্ভব হয়নি। চুক্তিটি স্বাক্ষর না হওয়ায় ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, ভারতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ যাবত্ অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমুহে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ হতে জোর তাগাদ দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ ও চাপ অব্যাহত রয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের জন্যও অনুরাধ করা হয়েছে। ভারতের নতুন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিষয়টি তাদের সক্রিয় বিবেচনায় আছে। তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভিসা জটিলতা দূর করার আশ্বাস
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ভিসা প্রদানের জটিলতা দূরকরণেরও আশ্বাস দিয়েছে ভারত সরকার। এছাড়া ষাটোর্ধ্ব ও ১৩ বছরের বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যে ভিসাটি দেয়া হবে সেটি হবে টুরিস্ট ভিসা। প্রশ্নোত্তর পর্বে কর্নেল (অব.) ফারুক খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। একেএম রহমতুল্লার এ সংক্রান্ত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে জানান, ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তির ঝামেলার বিষয়ে ভারত সরকার ও ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। তারা সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যে কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, ভিসা সমস্যা সমাধানে ভারত সরকার আরও কয়েকটি শহরে ভিসা অফিস খোলার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করেছে, যা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় আছে। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ভারতীয় ভিসা প্রসেসিং সেন্টার খোলা হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী এ সময় সংসদকে আরও জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পিপলস টু পিপলস যোগাযোগ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ভারতের পূর্বাংশের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের নতুন দুটি মিশন খোলার আবেদন ভারত সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। ভারতের ত্রিপুরা ও নৌহাটিতে এ দুটি বাংলাদেশের মিশন চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন,  ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে আটকে পড়া ২ লাখ ৪০ হাজার পাকিস্তানি নাগরিককে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয়  মেয়াদেও বাংলাদেশ-পাকিস্তান পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ বৈঠকেও বিষয়টি  জোরালভাবে উত্থাপন হয়। এ বছর আবার ফরেনসিক কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেখানে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
(সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৪)