শিশুকাল থেকেই পরিবেশের বন্ধু হিসেবে গড়ে ওঠা জরুরি
Published : Monday, 29 May, 2017 at 7:45 PM, Update: 29.05.2017 7:49:35 PM, Count : 229
শিশুকাল থেকেই পরিবেশের বন্ধু হিসেবে গড়ে ওঠা জরুরিমো. আলতাফ হোসেন : টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে যদি শিশুকাল হতেই প্রকৃতির পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে শিশুরা তাহলে এ পৃথিবী হবে বাসযোগ্য পরিবেশ হবে সুন্দর সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। সে লক্ষ্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা দরকার বলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, এজন্য শিশুদের পরিবেশ সচেতন করে গড়ে তুলতে স্কুল পাঠ্যসূচিতে পরিবেশ সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
পরিবেশ নিয়েই আমাদের জীবন। আমরা যে পরিবেশেই থাকি না কেন সেই পরিবেশ দ্বারাই আমরা প্রভাবিত ও গঠিত। তাই প্রকৃতির সঙ্গেই মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাকৃতিক পরিবেশের নিয়ম নিয়ন্ত্রিত গতি দ্বারা জীবন প্রবাহমান। প্রাকৃতিক সম্পদের অপূর্ব সমাহার আর তার ব্যবহার দ্বারা জীবনকে আমরা করে তুলি আনন্দময়। প্রকৃতির সক্রিয়তা ও সজীবতা জীবনে এনে দেয় অফুরন্ত অভিজ্ঞতা। আমরা প্রকৃতির কাছ থেকেই শিখি আর প্রকৃতির পরিবেশেই গড়ে উঠি। আর এ প্রকৃতির পরিবেশ গড়ে উঠা যদি হয় শিশুকাল হতেই তাহলে তো টেকসই হবে পরিবেশ আর বাসযোগ্য হবে পৃথিবী আর পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে যদি শিশুকাল হতেই প্রকৃতির পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে শিশুরা তাহলে এ পৃথিবী হবে বাসযোগ্য পরিবেশ হবে সুন্দর সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। সে লক্ষ্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা দরকার বলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, এজন্য শিশুদের পরিবেশ সচেতন করে গড়ে তুলতে স্কুল পাঠ্যসূচিতে পরিবেশ সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। হাসানুল হক ইনু ১৯ মে শুক্রবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলস্থ চলচিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর (ডিএফপি) নবারুন পরিবেশ সম্মেলনে প্রধান অথিতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন, ‘প্রকৃতির বন্ধনে প্রাণের স্পন্দনে-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর তাদের নিয়মিত মাসিক পত্রিকা নবারুনের খুদে লেখক ও আঁকিয়েদের নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে অন্তরঙ্গ আলাপকালে পরিবেশ শিক্ষা নিয়ে ছন্দোবদ্ধ শ্লোগান দেন। শত শিশু কিশোর-এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলে। ‘ভালো করে লেখাপড়া শিখবো, পশুপাখি গাছপালাকে মায়া করব, ঘরবাড়ি ঠিকঠাক রাখব। শিশু-কিশোরদের জন্য সরকারিভাবে প্রকাশিত পত্রিকা নবায়ন-ভিত্তিক ও সম্মেলনে অংশ নিয়ে শিশু-কিশোররা পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্যতম সৌন্দর্য তার বনরাজি ও বৃক্ষরাশি সবুজ গাছ আর তরুলতা শুধুু আমরা কেটেই ক্ষান্ত হচ্ছি না জ্বলন্ত আগুনে পুড়ে বানাচ্ছি ইট।
তামাক চুল্লি আর ইটের ভাটার ভাসমান কালো বিষাক্ত ধোঁয়া আকাশে গ্যাস একেবারে ফুসফুসের ভেতরে। প্রকৃতির সম্পদের  উপকারের প্রতিদানে অপকার করি। বৃক্ষ যেখানে আমাদের পরম আত্মীয় পরম বন্ধু, সেখানে আমরা হয়ে যাই গাছের প্রতি ভালবাসাহীন। শুধু তাই নয়, নদী নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, খানা-খন্দ, জলাভূমি ভরাট করে, অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে,অপরিমিত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে পরিবেশের ক্ষতি করছি। ডিমওয়ালা মাছ ও গুঁড়ো মাছ ধরে,আমরা যে, আমাদের জীবিকাই ধ্বংস করে চলছি, তার খরব বা কে রাখে? আমাদের দেশের সম্পদ আমরা যথাযথ সংরক্ষণ ও সদ্ব্যবহার করি না বলেই আমাদের চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশের আমরা যতো যত্ন নেবো সংরক্ষণ করব সদ্ব্যবহার করব ততোই উন্নয়নের ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে। আমরা যেন প্রাকৃতিক সম্পদকে সদ্ব্যবহার করি, মানবকল্যাণে ব্রতী হই, প্রাকৃতিক সম্পদকে যেন দেশ ও জাতির বন্ধুরূপে কাছে টেনে নেই, পরম যত্নে লালন করি। যারা বন, প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করে চলেছে তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক, তাদেরকেও যেন আমরা সচেতন করে তুলতে পারি, না পারলেও যেনো প্রতিরোধ করতে পারি। বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উপাদান দ্বারা আবৃত বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক পরিবেশেই আমাদের দেশকে করে তুলেছে আরো মহনীয় লাবন্যময় ও ঐশ্বর্যপূর্ণ স্বর্গপুরী। সোনার মাটিতে সোনা ফলে, নাদীমাতৃক এই দেশে। পরিবেশ নিয়েই আমাদের জীবন। প্রধান মন্ত্রী-শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীতে এখন সাতশ কোটি মানুষের বাস। সীমিত সম্পদ ব্যবহার করেই পৃথিবীবাসী  তাদের প্রয়োজন  কৃষি ও শিল্পের। শিল্পের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ও কলাকৌশল উদ্ভাবন করছে জনসংখ্যার আধিক্য, প্রকৃতি ও প্রযুক্তির সংঘাতে ঝুঁকিসংকুল হয়ে উঠেছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ। পরিবেশের সঙ্গে প্রাণের সম্পর্ক আত্মিক বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ঘটমান দুর্যোগকে সামনে রেখে সময় এসেছে সে সম্পর্কের শেকড়ে ফেরত যাওয়ার। স্বাধীনতাত্তোরকালে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুয়ার খুলে দেয় ১৯৯০ পরবর্তী সময়ের গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশে। এরপর থেকে ন্যূনতম প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের কম হয়নি। বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রগতাির হার ধারবাহিকভাবে ৬ দশমিক শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ০৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আগামী ৫ বছরে এই প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে যাবে। খাদ্য উত্পাদন বেড়েছে। বেড়েছে শিক্ষার হার। দরিদ্র জন গোষ্ঠীর অনেকেই দরিদ্রসীমা অতিক্রম করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবেশেগত সমস্যাও বাড়ছে আনুপাতিক হারে। দেশে বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, মাটি দূষণ, শব্দ দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের যদি ছোটবেলা থেকে দেশের পরিবেশ ইস্যুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায় এবং হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে পরিবেশ সংবেদনশীল করে তোলা যায় তাহলে তারা ভবিষ্যতে দেশেকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারবে। দেশে পরিবেশ সংবেদনশীল প্রজন্ম সৃষ্টির প্রত্যয় নিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্কুলে গ্রীনক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশের সমস্ত স্কুলে গ্রীনক্লাব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে একটি পরিবেশ সংবেদনশীল জাতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে যেখানে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম নিজেরাই নিজেদের পরিবেশকে জেনে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।  স্কুল পর্যায়ে গ্রীনক্লাব কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষভাবে সাহায্য ভূমিকা পালন করবে গ্রীনক্লাব সদস্যদের জন্য।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক: স্বপন কুমার সাহা।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : news.bartoman@gmail.com, bartamandhaka@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft