বাংলাদেশ জাতীয় দলে মাহামুদউল্লাহর দশ বছর
Published : Tuesday, 25 July, 2017 at 9:20 PM, Count : 348
বাংলাদেশ জাতীয় দলে মাহামুদউল্লাহর দশ বছরক্রীড়া প্রতিবেদক : ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা। সময়ের পালাবদলে ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পরিণত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে। দেখেছেন অনেক বাঁক বদলের দৃশ্য। সাফল্যের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে যেমন উঠেছেন, তেমনি ব্যর্থতায় সাগরেও মেরেছেন ডুব। তবে খারাপ সময়ে কখনো ভেঙে পড়েননি এই ব্যাটসম্যান, উল্টো জয় করার মানসিকতা তাকে ফিরিয়েছে বীরের বেশে। হার না মানার এই মানসিকতায় মাহমুদউল্লাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পার করলেন নানা রূপে সাজানো ১০টি বছর।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটের অভিষেকে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। বল হাতে ২৮ রানে ২ উইকেটের পাশাপাশি খেলেন ৩৬ রানের ইনিংস। অভিষেক ম্যাচের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন তিনি, ‘খুবই রোমাঞ্চিত ছিলাম। আগের দিন আমাকে বলা হয়েছিল, আমি খেলব। সারারাত কত কিছু ভেবেছি। অন্য রকম একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ বছর পার করার অনুভূতি ভাগাভাগি করলেন এভাবে, ‘খুব ভালো লাগছে। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ১০টি বছর পার করতে পেরেছি। আরও কয়েকটা বছর যদি দেশের জার্সি গায়ে খেলতে পারি, তাহলে হয়তো তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারব।’
অনেক প্রাপ্তি যোগ হলেও কিছুটা অপূর্ণতা রয়েই গেছে মাহমুদউল্লাহর। কী সেই অপূর্ণতা, সেটা অবশ্য খোলাসা করলেন না, ‘ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন থাকবেই। আর অপূর্ণতার কথা বললে অনেক কিছুই বলা যায়। আমি যখন শুরু করি তখন (বাংলাদেশ ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে) ১০ নম্বরে ছিলাম। এখন সাতে আছি। আমি বাংলাদেশকে দেখে যেতে চাই সেরা চার কিংবা তিনে।’
প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপ জেতার। মাহমুদউল্লাহর মনে এই স্বপ্ন থাকলেও বাস্তবতা তিনি বোঝেন, তাই তো ধীর লয়ে এগিয়ে যেতে চান স্বপ্নের কাছে, ‘এটা অনেক সময়ের ব্যাপার। আমি যেটা আমি মনে করি, ২০১৮ সালটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের আগে ২০১৮ সালের খেলাগুলো আমাদের আত্মবিশ্বাস দিবে।’ মাহমুদউল্লাহর চোখে গত ১০ বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ড্রেসিংরুমে, ‘জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে যখন প্রথম আসি, তখন আমরা জানতাম যে, ১০টা ম্যাচ খেললে ৯টাই হারব। একটা অঘটন হয়ে আসা জয় পেলেও পেতে পারি। ড্রেসিংরুমের সেই পরিবেশ দেখে শুরু করেছি। কিন্তু গত তিন বছরে সেই ড্রেসিংরুমই আমূল বদলে গেছে। এখন আমরা ১০টা ম্যাচ খেললে ১০টাই জেতার জন্য মাঠে নামি।’
বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যান মনে করেন, এটা শুধু শুরু, সামনে আরও সাফল্য অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। সামপ্রতিক সাফল্যে তার অবদান কম নয়। তার ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশ অসাধারণ কয়েকটি জয় পেয়েছে। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের হয়ে ইতিহাস লেখা এই অলরাউন্ডারের কাছে নিজের সব ইনিংসই প্রিয়, ‘আমার কাছে আমার সব বড় ইনিংসই খুব প্রিয়। এর থেকে আলাদা করে নেয়া কঠিন। বিশ্বকাপে দুটো সেঞ্চুরি, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একটা। তবে একটু আলাদা করতে বললে টেস্ট সেঞ্চুরিটার কথা বলব।’  আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার পর নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তিনি। তবে কোনো কিছু ঠিক করেননি তিনি এখনও, ‘এভাবে চিন্তা করি না। আমি আসলে লক্ষ্য ঠিক করে কোনো কিছু করাটা পছন্দ করি না। ছোট ছোট ধাপ নিয়ে এগোতে পছন্দ করি।
এখনও বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলছি। ১০ বছরে যে অভিজ্ঞতা অর্জনি করেছি, সেটা জাতীয় দলে কাজে লাগানোটাই বড় ব্যাপার।’


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক: স্বপন কুমার সাহা।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : news.bartoman@gmail.com, bartamandhaka@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft