নীতিমালা না থাকায় শিল্প হয়ে উঠছে না ‘ডিজিটাল সার্ভিস’
Published : Monday, 21 August, 2017 at 8:51 PM, Count : 157
নীতিমালা না থাকায় শিল্প হয়ে উঠছে না ‘ডিজিটাল সার্ভিস’কোনো ধরনের গাইডলাইন বা নীতিমালা না থাকায় তথ্যপ্রযুক্তির সম্ভাবনাময় খাত ডিজিটাল সার্ভিস (ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বা ভাস) শিল্প হয়ে উঠতে পারছে না। সঠিক পরিচয় না দাঁড়ানো, ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়াসহ বাজারের আকার বড় না হওয়ার মতো বহুমুখী সমস্যা বিদ্যমান এ খাতে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কনটেন্ট সেবার সঙ্গে সম্পৃক্তরা শিগগিরই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে এ বিষয়ে (ভাস গাইডলাইন) একটি গাইডলাইন বা নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ধরনের নীতিমালা না থাকায় ডিজিটাল সার্ভিস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব আয় কম হচ্ছে। একইসঙ্গে সিপি (কনটেন্ট প্রোভাইডার) প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বড় বড় সিপি অপারেটর কোম্পানিগুলো নিজস্ব ক্ষমতা বলে রাজস্ব আয় ভাগাভাগিটা নিজেদের মতো করে নিচ্ছে মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর কাছ থেকে। অন্যদিকে ছোট সিপি’রা দিন দিন কাজ না পেয়ে বাজার থেকে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বিদ্যমান এসব সমস্যা দূর করতে নীতিমালা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভাস নির্মাতাদের সংগঠন কনটেন্ট প্রোভাইডার্স অ্যান্ড অ্যাগ্রিগ্রেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডিং নীতিমালা প্রয়োজন। এই নীতিমালার অভাবে সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। নীতিমালা প্রণয়ন করে এসব সমস্যা দূর করা গেলে এটা শিল্প হিসেবে দাঁড়াতে পারবে।’
মাহবুবুল আলম বলেন, ‘গত অর্থ বছরে সরকার দেশের ডিজিটালাইজেশনের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। ২০১৭-১৮ বছরে বরাদ্দ বাড়িয়ে তা ৯ হাজার কোটি টাকা করেছে। ফলে তিনি আশাবাদী, সরকার এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে।’ তিনি আরও জানান, ‘ভাস বা ডিজিটাল সার্ভিস গাইডলাইন শিগগিরই হতে পারে। বিভিন্ন মহলে এ ব্যাপারে কথা হচ্ছে। বিটিআরসি থেকে তারা এখন ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।’
সরকার তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যে ১০ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভ দেয়ার ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে মাহবুবুল আলম বলেন, ‘নীতিমালার অভাবে কনটেন্ট বিদেশে রফতানি করা হলেও রফতানিকারকরা ওই ইনসেনটিভ থেকে বঞ্চিত হবেন। কারণ, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোতে (ইবিপি) তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবা পণ্যের যে তালিকা রয়েছে, তাতে কনটেন্ট বা ডিজিটাল সার্ভিস বলে কোনো কিছু নেই। ফলে এ খাতের উদ্যোক্তারা এই ইনসেনটিভ থেকে বঞ্চিত হবেন।’ নীতিমালা থাকলে ইপিবিতে এই বিষয়ে সিপি’রা দাবি উত্থাপন করতে পারতেন বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, কেবল নীতিমালার অভাবেই দেশে ডিজিটাল সার্ভিসের বাজারটা বড় হতে পারছে না। যা বর্তমানে টেলিকম খাতের আয়ের ৪ শতাংশে গিয়ে আটকে আছে।
উল্লেখ্য, দেশের বর্তমান টেলিকম খাতের আয় বছরে ২৪-২৫ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে ডিজিটাল সার্ভিসের বাজারের আকার প্রায় হাজার কোটি টাকার। সঠিক নীতিমালার অভাবে এই্ বাজারকে ১০ শতাংশেও উন্নীত করা যাচ্ছে না। যদিও বিশ্বে এই বাজার আকারের স্ট্যান্ডার্ড টেলিকম আয়ের ১৮ শতাংশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কনটেন্ট নির্মাতা বলেন, ‘একটি কনটেন্ট বিক্রি করে আমরা আয়ের ২১.৫ শতাংশ সরকারকে রাজস্ব, ভ্যাট ও সার্জচার্জ বাবদ দিয়ে থাকি। নীতিমালা হলে সরকার এখান থেকে আরও রাজস্ব আয় করতে পারবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, নীতিমালা না থাকায় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ক্ষমতায় মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর সঙ্গে ইচ্ছে মতো দর-কষাকষি করতে পারছে। কনটেন্টে নিম্ন বা উচ্চমূল্য সীমা বলে বেঁধে দেওয়া হয়নি। ফলে বিদেশি ল্যাপটপ সর্বস্ব কোম্পানিগুলো চড়া দাম নিয়ে যেতে পারছে। দেশি কয়েকটি কোম্পানি এ কাজটি করতে পারলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। নীতিমালা থাকলে প্রতিটি কনটেন্টই একটি নির্দিষ্ট দাম থেকে শুরু হতো বলে তিনি মনে করেন।
জানা গেছে, কনটেন্ট প্রোভাইডার্স অ্যান্ড অ্যাগ্রিগ্রেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্য সংখ্যা ৬০টির (পরিপূর্ণ সেটআপ নিয়ে) বেশি। তবে অপারেশনে আছে (শুরু থেকে কাজ করছে) এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শতাধিক। এসব প্রতিষ্ঠান যেসব কনটেন্ট (মোবাইলের রিংটোন, ওয়েলকাম টিউন, ওয়ালপেপার ইত্যাদি) তৈরি করছে, তার বর্তমান নাম ডিজিটাল সার্ভিস। নীতিমালার অভাবে এই সার্ভিস খাতটি শিল্পের মর্যাদা না পাওয়ায় সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি তৈরি না হওয়া, ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়া, দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে না পারা, চাকরির বাজার প্রতিষ্ঠিত না হওয়াসহ বহুবিধ সমস্যা তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রথমবারের মতো ‘ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস লাইসেন্সিং গাইডলাইনস-২০১২’ তৈরি করে বিটিআরসি কিন্তু, পরে তা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বাতিল করে দেয়। ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে বিটিআরসিকে জানায়, আপাতত ভাসের কোনো প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে ৫টি কারণ দেখায় মন্ত্রণালয়। এরপরে ২০১৬ সালে গাইডলাইনস ফর দ্য টেলিকম ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসেস তৈরি করা হয় এবং সব পক্ষের অভিমত নেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সংশ্লিষ্টদের কাছে খসড়াটি পাঠায়। সবার অভিমত নেয়ার জন্য বিটিআরসি গাইডলাইনটি কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মতামত গ্রহণ করে। সব পক্ষের মতামত একত্রিত করে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর বিটিআরসি’র সিস্টেম ও সার্ভিসেস বিভাগের একজন পরিচালক তা সই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠান, যার অনুলিপি পাঠানো হয় বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছেও। অথচ এই উদ্যোগ প্রথম নেয়া হয় ২০০৮ সালে।
- মুঠোয়বিশ্ব ডেস্ক



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক: স্বপন কুমার সাহা।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : news.bartoman@gmail.com, bartamandhaka@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft