প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
Published : Tuesday, 12 September, 2017 at 9:26 PM, Count : 131
প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তামো. ওসমান গনি : সময়ের সঙ্গে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষা ছাড়া কোন দেশ বা জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তবে সে শিক্ষা অবশ্যই হতে হবে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হল সাধারণ শিক্ষা আর অপরটি হলো কর্মমুখী শিক্ষা বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা। তবে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুই ধরনের শিক্ষাই আছে। সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থাটা আমাদের দেশে তুলনামূলক বেশি। যেখানে বেশি থাকার কথা কর্মমুখী শিক্ষা বা বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা। আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় নবম শ্রেণিতে থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাটা আরম্ভ হয়। যেটা আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে হওয়া উচিত। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা বা বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা এখন যুগের দাবি। শিক্ষাজীবনের শুরুতে প্রাথমিক স্তর থেকেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক তথা হাতে কলমে শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। শিশুদের জন্য এমন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে যা তাদের ভবিষ্যত্ কর্মজীবনে স্বনির্ভর হতে সহায়তা করে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সেই শিক্ষা যেন কাজে লাগে।
বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের যা শেখানো হচ্ছে তা এক ধরনের গত্বাধা তাত্ত্বিক শিক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়। শিশু শিক্ষার্থীদের কাছে স্কুল আনন্দদায়ক মনে হয় না। শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় প্রাণের স্পন্দন জাগে না। শিক্ষা আনন্দময়। আনন্দঘন পরিবেশে শিশুদের পাঠদান সুনিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঠ্যক্রম বহুলাংশে শহর ও গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী আদিবাসী, উপজাতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ও জীবনমুখী নয়। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, শিষ্টাচার, নৈতিকতা, জীবনধর্মী বিষয়াদিসমৃদ্ধ ন্যূনতম পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও চর্চা একান্ত জরুরি। আমাদের সন্তানদের জন্য কি ধরনের শিক্ষা দরকার? এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, জীবন যেমন হওয়া উচিত, শিক্ষাও তেমন হওয়া উচিত। জীবন ও শিক্ষা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই জীবনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম সেরকম শিক্ষা চাই। পণ্ডিত নেহেরু বলেছিলেন, আগামী দিনের ভারত কেমন হবে তা নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে সমকালীন শ্রেণিকক্ষসমূহে। একই কথা আমরা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বলতে পারি। বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বলতেন, ‘জ্ঞানের চাইতে বড় হচ্ছে কল্পনাশক্তি।’ আইনস্টাইন খুব বড় মাপের বিজ্ঞানী ছিলেন, সত্যি কথা বলতে কি তিনি কত বড় বিজ্ঞানী সেটা বোঝার মতো বিজ্ঞানীও পৃথিবীতে খুব বেশি নেই। সেই আইনস্টাইন জ্ঞান থেকেও কল্পনাশক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তার নিশ্চয়ই একটি কারণ আছে। কারণটি সহজ, জ্ঞান অর্জন করা যায় কিন্তু কল্পনাশক্তি অর্জন করা যায় না। মানুষ কল্পনাশক্তি নিয়ে জন্মায়। এই শক্তিকে খুব যত্ন করে লালন করতে হয়, তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। পৃথিবীতে সবচেয়ে মহান কাজগুলো হয়েছে এই কল্পনাশক্তির কল্যাণে। ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে কল্পনাশক্তির দরকার, যাদের কল্পনাশক্তি নেই তাদের এই পৃথিবীকে দেয়ার কিছুই নেই। তাই আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও সেই কল্পনাশক্তি এবং সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোর পদ্ধতিতে ঢেলে সাজানো জরুরি। শিক্ষার স্বরূপ সম্পর্কে হিন্দু ধর্মীয় মহাপুরুষ এবং দার্শনিক স্বামী বিবেকানন্দ বলেন, ‘কোনো জ্ঞানই বাহির হইতে আসে না, সবই ভেতরে। ... আমরা বলি, নিউটন মাধ্যাকর্ষণ আবিষ্কার করিয়াছিলেন। উহা কি এককোণে বসিয়া তাহার জন্য অপেক্ষা করিতেছিল? না, উহা তাহার নিজ মনেই অবস্থিত ছিল।... সময় আসিল, অমনি তিনি উহা দেখিতে পাইলেন। মানুষ যত প্রকার জ্ঞান লাভ করিয়াছে, সবই মন হইতে। জগতের অনন্ত পুস্তকাগার তোমারই মনে। বর্হিজগত্ কেবল তোমার নিজ মনকে অধ্যয়ন করিবার উত্তেজক কারণ উপলক্ষ মাত্র, তোমার নিজ মনই সর্বদা তোমার অধ্যয়নের বিষয়। আমার মতে মনের একাগ্রতা সাধনাই শিক্ষার প্রাণ, শুধু তথ্য সংগ্রহ করা নহে। যাতে চরিত্র তৈরি হয়, মনের শক্তি বাড়ে, বুদ্ধির বিকাশ হয়, নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে পারে, এইরকম শিক্ষা চাই। মনকে রাশি রাশি তথ্য দিয়া ভরিয়া রাখার নাম শিক্ষা নয়। মনরূপ যন্ত্রটিকে সুষ্ঠুতর করিয়া তোলা এবং উহাকে সম্পূর্ণ বশীভূত করা- ইহাই হইল শিক্ষার আদর্শ। আমাদের চাই কি জিনিস? স্বাধীনভাবে স্বদেশী বিদ্যার সঙ্গে ইংরেজি আর বিজ্ঞান পড়ানো, চাই কারিগরি শিক্ষা, যাতে শিল্প বাড়ে; লোকে চাকরি না করে দু’পয়সা করে খেতে পারে। শহরের সর্বাপেক্ষা দরিদ্রগণের যেখানে বাস, সেখানে একটি মৃত্তিকানির্মিত কুটীর ও হল প্রস্তুত কর। গোটাকতক ম্যাজিক লণ্ঠন, কতকগুলো ম্যাপ, গ্লোব এবং কতকগুলো রাসায়নিক দ্রব্য ইত্যাদি যোগাড় কর। প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় সেখানে গরিব, অনুন্নতদের কে জড়ো কর; তাহাদিগকে প্রথমে ধর্ম উপদেশ দাও, তারপর ওই ম্যাজিক লণ্ঠন ও অন্যান্য দ্রব্যের সাহায্যে জ্যোতিষ, ভূগোল প্রভৃতি চলিত ভাষায় শিক্ষা দাও। দরিদ্র বালকেরা বিদ্যালয়ে না গিয়া বরং মাঠে গিয়া পিতাকে তাহার কৃষিকার্যে সহায়তা করিবে, অথবা অন্য কোনোরূপে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করিবে; সুতরাং যেমন পর্বত মহম্মদের নিকট না যাওয়াতে মহম্মদই পর্বতের নিকট গিয়াছিলেন সেইরূপ দরিদ্র বালক যদি শিক্ষালয়ে আসিতে না পারে তবে তাহাদের নিকট শিক্ষা পৌঁছাইয়া দিতে হবে। তিনিই প্রকৃত শিক্ষা দিতে পারেন, যাহার কিছু দিবার আছে, কারণ শিক্ষা প্রদান বলিতে কেবল কথা বলা বুঝায় না, উহা কেবল মতামত বুঝানো নহে; শিক্ষা- প্রদান বলিতে বুঝায় ভাব-সঞ্চার। যে বিদ্যার উন্মেষে ইতর-সাধারণকে জীবন-সংগ্রামে সমর্থ করিতে পারা যায় না, যাতে মানুষের চরিত্রবল, পরার্থপরতা, সিংহ-সাহসিকতা এনে দেয় না, সে কি আবার শিক্ষা? যে শিক্ষায় জীবনে নিজের পায়ের উপরে দাঁড়াতে পারা যায়, সেই হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা বলিতে কতগুলো শব্দ শিখা নহে, আমাদের বৃত্তিগুলোর শক্তিসমূহের বিকাশকেই শিক্ষা বলা যাইতে পারে; অথবা বলা যাইতে পারেথ শিক্ষা বলিতে ব্যক্তিকে এমনভাবে গঠিত করা, যাহাতে তাহার ইচ্ছা সদ্বিষয়ে ধাবিত হয় এবং সফল হয়। অশেষ জ্ঞান ও অনন্ত শক্তির আকর ব্রহ্ম প্রত্যেক নরনারী অভ্যন্তরে সুপ্তের ন্যায় অবস্থান করিতেছেন; সেই ব্রহ্মকে জাগরিত করাই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য। নারীশিক্ষা প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ বলেন, মেয়েদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার না হলে কিছু হবার জো নেই। পুরাণ-ইতিহাস, গৃহকার্য, শিল্প, ঘরকন্নার নিয়ম ও আদর্শ চরিত্র গঠনের সহায়ক নীতিগুলি বর্তমান বিজ্ঞানের সহায়তায় শিক্ষা দিতে হবে। ছাত্রীদের ধর্মপরায়ণ ও নীতিপরায়ণ করতে হবে। যাদের মা শিক্ষিতা ও নীতিপরায়ণা হন, তাদের ঘরেই বড় লোক জন্মায়। সীতা, সাবিত্রী, দময়ন্তী, লীলাবতী, খনা, মীরা-এঁদের জীবন-চরিত্র মেয়েদের বুঝিয়ে দিয়ে তাদের নিজেদের জীবন ঐরূপে গঠিত করতে হবে। শিক্ষা পেলে মেয়েদের সমস্যাগুলো মেয়েরা নিজেরাই মীমাংসা করবে। আমাদের মেয়েরা বরাবরই প্যানপেনে ভাবই শিক্ষা করে আসছে। একটু কিছু হলে কেবল কাঁদতে মজবুত। বীরত্বের ভাবটাও শেখা দরকার। এ সময়ে তাদের মধ্যে আত্মরক্ষা শেখা দরকার হয়ে পড়েছে।
অধুনা শিক্ষাকে দুটো পর্যায়ে ফেলা হয়েছে: সাধারণ শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। বৃত্তি হলো জীবিকা, কর্ম বা পেশা। বৃত্তির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাই বৃত্তিমূলক শিক্ষা। যে শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী হাতে-কলমে কোনো বিষয়ে শিক্ষা লাভ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে তাকেই বলা হয় বৃত্তিমূলক শিক্ষা। বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যক্তিকে কোনো না কোনো পেশার উপযোগী করে তোলে। সাধারণ পর্যায়ের বৃত্তিমূলক শিক্ষা বলতে বোঝায় কোনো বিষয়ের স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারিক শিক্ষা। যেমন- কৃষিকাজ, দর্জির কাজ, রাজমিস্ত্রির কাজ, কাঠ মিস্ত্রির কাজ, রঙের কাজ, সাইকেল-রিকশা ইত্যাদি মেরামতের কাজ, রেডিও, টেলিভিশন, ফ্রিজ ইত্যাদি বৈদ্যুতিক গৃহসামগ্রী মেরামতের কাজ, হাউস ওয়ারিং, বাস-ট্রাক ইত্যাদির ড্রাইভারের কাজ, সাধারণ বা প্রাথমিক চিকিত্সার কাজ, কাপড়-চোপড় ইস্ত্রি, আধুনিক পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগি পালন, গরু, ছাগল ও ভেড়ার খামার করা, মত্স্য চাষ, সেলুনের কাজ ইত্যাদি। এ ধরনের শিক্ষা অল্প সময়ে স্বল্প ব্যয়ে সহজেই গ্রহণ করা যায়। বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে মানুষ কৃষিতে, শিল্পে সর্বত্র বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। তাই এসব ক্ষেত্রে কাজ করতে গেলে বৃত্তিমূলক শিক্ষা অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্যে দরকার বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত লাখ লাখ কর্মঠ, উদ্যোগী যুবক। কৃষিতে, কুটির শিল্পে, বৃহত্ শিল্পে সর্বত্র উত্পাদন ও সেবার মান বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের জন্য চাই বৃত্তিমূলক শিক্ষা। আজকের পৃথিবীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলো এবং এশিয়ার চীন, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া উন্নতি লাভ করেছে বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমেই।
উন্নত বিশ্বের জনসাধারণের মধ্যে বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রচলন ও গুরুত্ব অনেক বেশি। তারা সার্টিফিকেটে বিশ্বাসী নয়, কাজে বিশ্বাসী। তারা কোনো কাজকেই খাটো করে দেখে না। তাই সে সব দেশে বৃত্তিমূলক শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। উন্নত দেশে শিক্ষা মানেই কাজ, চাকরি। তারা জীবন ও প্রয়োজন উপযোগী শিক্ষা লাভ করছে। তাদের পেশাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষাই কাজের দিশা দেয়। প্রয়োগভিত্তিক শিক্ষা লাভের অভাবে আমাদের ছাত্ররা নিজের বা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। হাইটেক বা অতি উন্নত প্রযুক্তির যুগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও জুতসই প্রযুক্তির শিক্ষা দিতে হবে। সিঙ্গাপুরের স্কুলগুলোতে প্রথম শ্রেণি থেকেই কম্পিউটারভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। সাধারণ শিক্ষার দিন এখন শেষ হয়ে গেছে। বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করে জীবন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।কৃষি প্রধান বাংলাদেশে প্রাথমিক স্তর থেকেই কৃষিশিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের নিবিড় কৃষিশিক্ষার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং কৃষিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করা প্রয়োজন। ব্যবহারিক কৃষি শিক্ষার জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃষি প্রদর্শনী প্লট বা বাগান গড়ে তোলা বাধ্যতামূলক আইন জারি করতে হবে। বিদ্যালয় বাগান হবে কৃষি শিক্ষার জীবন্ত বিদ্যাপীঠ। এখানে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে কৃষিভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ পাবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতি পাঠ, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রায়োগিক কৃষি শিক্ষার উপর বাস্তব ধারণা লাভ করবে। বাগানের পরশে শিক্ষার্থীদের কৃষিভিত্তিক মনমানসিকতা গড়ে উঠবে। বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যত্ প্রজন্ম স্বনির্ভরতা অর্জনে সক্ষম হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত সহগ্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষত দারিদ্র্যবিমোচন ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্কুলকেন্দ্রিক বাগান কার্যক্রমের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। কৃষি শিক্ষার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিলে দেশ স্বনির্ভর হবে। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অপুষ্টি, বেকারত্বের মতো বহু জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। বাগান তৈরির যোগ্যতা অর্জনকে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রান্তিক যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা একান্ত দরকার। টেকসই উন্নয়নের দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত দারিদ্র্যবিমোচন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত উন্নয়নসহ সামগ্রিক উন্নয়ন। অর্জিত উন্নয়নকে ব্যাহত না করে বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোই হলো টেকসই উন্নয়ন। সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে সবার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেটা সমাধানের মাধ্যমে উন্নয়ন এগিয়ে নেয়া যায়। শুধু সরকারই নয়, কমিউনিটি, এনজিও, সিভিল সোসাইটির অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব। জাতীয় অগ্রগতি, টেকসই উন্নয়ন এবং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে বর্তমানে প্রচলিত পাঁচ বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষার স্থলে আট বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য ন্যূনতম ৮ বছর মেয়াদি শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা অত্যাবশ্যক। পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহে ৮ হতে ১২ বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষার মেয়াদ চালু রয়েছে। অষ্টম শ্রেণি শিক্ষা শেষে পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট (১৯৭৪) অনুসরণ করা যায়। মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রাথমিক শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। জীবনধর্মী ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করা সম্ভব। প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য হলো শিশুর দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক, মানবিক ও নান্দনিক বিকাশ সাধন এবং তাকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করা। এ বিশাল লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। পুঁথিগত মুখস্থবিদ্যার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে হাতে কলমে দক্ষতা অর্জনের উপর অধিক গুরুত্ব দিতে। দেশের বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করে উন্নয়নের মূল গ্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে শিক্ষাই একমাত্র মাধ্যম। আমাদের ন্যায় দরিদ্র ও অনুন্নত দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি জীবনমুখী শিক্ষার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। যেহেতু আমাদের দেশ পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছে সেহেতু আমাদের কে জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। পৃথিবীর যেসব দেশ আজ উন্নতদেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে সেটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে তাদের জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থার কারনে।তাই আমাদের কে এবং আমাদের দেশের সরকারপ্রধানকে জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দিকে এগিয়ে আসা উচিত।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিষ্ট


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক: স্বপন কুমার সাহা।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : news.bartoman@gmail.com, bartamandhaka@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft