কবিতা আমার আত্মার আত্মীয়
Published : Thursday, 14 September, 2017 at 9:02 PM, Count : 144
কবিতা আমার আত্মার আত্মীয়সাইফুদ্দিন সাইফুল : ইংরেজি সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি জন কিটস বলেছেন- ‘পৃথিবীতে কবিতার শেষ নেই, পৃথিবীতে কবিতা মৃত্যুহীন।’ আসলে এই পৃথিবীটাই এক সুন্দর নান্দনিক কবিতা। চারিদিকে সব যেনো কবিতা আর কবিতা। আর এই কবিতা অমর অর্থাত মৃত্যুহীন। মৃত্যু কবিতাকে এতটুকু স্পর্শ করতে পারে না। কবিতা সতত জীবন্ত। কবিতা তাই হঠাত্ করে এসে কবির কলমের কালিতে ধরা দেয় না। একজন কবিকে কবিতার জন্যে সাধনা করতে হয়, কবিতার জন্যে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়; এবং কবিতার জন্যে কষ্টও করতে হয় কখনো কখনো। কবিকে সময়কে ধারন করে এগিয়ে যেতে হয়। কবিকে চিন্তাকে ভাবনাকে বিশ্বাসকে শিল্পশক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে হয় কবিতার ভেতরে। একজন কবিকে রূপ রস ভাব কল্পনা ছন্দ ভাষা দিয়ে কবিতাকে জীবন্ত করে তুলতে হয়। এখানেই কবি আলাদা সত্তারূপে আত্মপ্রকাশ করে। আর এমনি করেই একটা সময় কবিতা আমার কাছে হয়ে উঠলো আরাধ্য দেবতা। এবং কবিতা লিখতে শুরু করি। এই বিবর্তনের সাথে সাথেই লেখালেখির প্রতি সম্পূর্ণ অন্যরকম ভাব তৈরি হয়। কবিতা লেখা অন্যের কবিতা পড়া যেনো একটা অভ্যাসে পরিণত হলো। একটা পর্যায়ে কবিতা লেখা সাহিত্যচর্চা একেবারে প্রধান কাজ হয়ে উঠলো। একটা কবিতা লিখেছি একদিনে, আবার একটি কবিতা লিখতে দশ দিন থেকে পনেরো দিন; আবার কখনো এক মাস দুই মাস তারও বেশি সময় লেগেছে। এখনো তা হয়। আসলে সত্যি কথা কি! কবিতার ভাব ছন্দ ভাষা উপমা কখন নিজের মধ্যে এসে ধরা দেবে এবং তা কিভাবে কোথায় প্রকাশ হবে একজন কবি তা আগে ভাগে জানতে পারে না। আমার বেলাতেও সেটাই হয়।
একজন বিজ্ঞানী তিনি স্রষ্টা শুধু সৃষ্টি করেন, একজন দার্শনিক তিনি দ্রষ্টা শুধু দেখতে পান; কিন্তু একজন কবি স্রষ্টা ও দ্রষ্টা। এই জীবনে সমাজে প্রকৃতিতে বিশ্বে একজন কবি অনেক অনেক কিছু দেখতে পায় এবং এই দেখাকে তিনি শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে কল্পনার হরেক রঙ মিশিয়ে একটা একটা কবিতা সৃষ্টি করেন। একজন কবি তাই স্রষ্টা ও দ্রষ্টার মিলিত রূপে আলাদা সত্তা নিয়ে দিব্য প্রকাশমান হয়ে ওঠে। কবি সৃষ্টি করে তাই কবিকে সুন্দরের সকল রূপকে রূপায়িত করতে হয়। কবি দেখতে পায় বলেই দেখার চোখকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে। এই বিশ্বাসে কবিতাকে করে তুলেছি আমার পথ চলার একান্তে বন্ধু। এই চারপাশে দু’চোখে যা দেখি তা শব্দে শব্দে বেধে কবিতা সৃষ্টি করি। যেহেতু জীবনে সমাজে প্রকৃতিতে বিদ্যমান নানা উপাদান একজন কবিকে কবিতা লিখতে কিংবা কবি হিসেবে গড়ে তুলতে বড়ো ভূমিকা পালন করে। সেহেতু জীবন ও সমাজের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা থেকেই যায়। আর এভাবে কবিতার সাথেই গড়ে তুলেছি আমার সাধের শিল্পের ঘর-সংসার। কবিতা তাই আমার কাছে আত্মার-আত্মীয়। কবিতাকে ছেড়ে এক বিন্দু থাকাটা শুধু কষ্টকরই নয় এটা একজন কবির জন্যে দিব্যি যন্ত্রনার সামিল। কেননা, কবিতা কখনো অনেক বেশি আনন্দের, পরম সুখের বারতা নিয়ে উপস্থিত হয়; কবিতা আবার বিরহের চরম দুঃখের যন্ত্রনার স্পর্শে কেঁদে কেঁদে ওঠে। এমনি করেই কবিতার সাথে আপনারে একাকার করে মূর্ত-বিমূর্তের জগত তৈরি করেছি।
কবিতার মধ্যে জীবন সমাজ বাস্তবতা প্রকৃতির অপার রূপ মানবিকতা দেশপ্রেম মানবপ্রেম স্বাদেশীকতা সাম্যের জয়গান শিল্পময় হয়ে উঠে। আবার তেমনি ভয়ংকর সাম্রাজ্যবাদের বেহালীপনা পুঁজিবাদের দস্যুবৃত্তি নষ্ট রাজনীতি অর্থনীতির অসমতা জীবনে সমাজে সকল অসঙ্গতি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও সচেতনভাবে কলমের কালিতে কবিতা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে পাঠকের কাছে সমাজের সামনে দ্বিধাহীনভাবে ভয়হীনভাবে দুষ্টু চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে তুলে ধরতে হয়। এছাড়া কবিতার ভেতরে পৌরাণিক কাহিনী থেকে শুরু করে ইতিহাস ঐতিহ্য ও সমকালকেও গুরুত্ব দিয়ে শব্দের গাঁথুনিতে বিনির্মাণ করা শিল্পের অধিকার। কেননা, কবিতা শুধু কবিতা না, কবিতা একটি প্রতিবাদের বড়ো মাধ্যম ও ভাষা। একটি কবিতা একজন মানুষকে একটি জাতিকে চেতনার সামনে আদর্শের সামনে দাড় করাতে পারে। একটি কবিতা একটি সুন্দর আন্দোলনকে বেগমান করতে পারে তাতে সন্দেহ নেই। সঙ্কটকালে কবিতা প্রেরণা হয়ে ধরা দেয়। কবিতার তাই মৃত্যু নেই। কবিতার যে ভাষা ভাব রস ছন্দ আবেদন শিল্পসত্তার অপার সম্ভাবনা অনেক অনেক বেশি ভূমিকা রাখে প্রকৃত চিত্রকল্প তৈরিতে। জানি যে, ছন্দ বদ্ধ শিল্প সমন্বয় রূপ প্রকাশে কবিতা চিত্রকল্প হয়ে ওঠে। কবিতা তাই সুন্দরের সুন্দর, নান্দনিকতার নান্দনিকতা, আনন্দের আনন্দ, চেতনার চেতনা আর অনুভূতির সবচাইতে প্রকাশের উত্তম মাধ্যম।
আর এভাবেই কবিতা দেহ-মন চিন্তা-চেতনা ভাব-ভাবনা বোধ-উপলব্ধি ও ইচ্ছেকে শিল্পময় চিত্রকল্প কারুময় গহীন অতলে ক্রমশঃ নিয়ে যায়। এবং শব্দের জাদুকরী খেলাতে হারিয়ে যায় অন্য এক পরিপাটি করে সাতরঙে সাজানো যৌবনবতী সবুজ অরণ্যে। কবিতার অতলে খুঁজে পাই অনেক অনেক অমূল্য দুর্লভ ধন-সম্পদ। এবং কবিতাকে করে তুলি আকাশছোঁয়া অট্রালিকা ও বহতা নদীর মতো। আর তাই যাপিত জীবনে প্রিয় যত পছন্দের তালিকায় আছে কবিতা প্রথমে এবং অন্যতম। কবিতার প্রেম গভীর মধুময় ও অন্তরঙ্গ। এটাকে আমি কিছুতেই অস্বীকার করতে পারিনে। সতত কবিতার জয় হোক।
লেখক: কবি ও সাহিত্যিক


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক: স্বপন কুমার সাহা।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : news.bartoman@gmail.com, bartamandhaka@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft