ডি ভিলিয়ার্সের শাসন
Published : Wednesday, 18 October, 2017 at 9:35 PM, Count : 124
ডি ভিলিয়ার্সের শাসনক্রীড়া প্রতিবেদক : দক্ষিণ আফ্রিকার কিম্বার্লিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ বোলারদের উপর যেনো ব্যাটিং তাণ্ডব চালালেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স। তার খুনে ব্যাটিং নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ৩৫৩ রানের পাহাড়সম রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দল। ওয়ানডেতে ফিরেই সেই পুরনো আগ্রাসী রূপে আবারও আর্বিভূত হলেন প্রোটিয়াদের এই ব্যাটিং কাণ্ডারি। প্রথম ওয়ানডেতে তার ব্যাট করার সুযোগ হয়নি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এসেই দেখা পেলেন সেঞ্চুরি। তবে অল্পের জন্য মিস করলেন ডাবল সেঞ্চুরি। ৪৮তম ওভারে রুবেল হোসেনের বলে সাব্বিরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে করলেন ক্যারিয়ার সেরা ১৭৬ রান। ১০৪ বলের ইনিংস ছিল ১৫টি চার ও ৭টি বিশাল ছয়ের মার। চেষ্টা করেছিলেন আরও একটি ছক্কার। ফুল লেংথ বলটিতে উড়িয়ে মেরেছিলেন। সীমানা থেকে ছুটে এসে ক্যাচ নেন সাব্বির।৪৭.৪ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে ৩৪৩। ক্যারিয়ার সেরা রান করলেন যে শটে, এবি ডি ভিলিয়ার্সের সেই বাউন্ডারিতেই সেঞ্চুরি হলো চতুর্থ উইকেট জুটির। মাত্র ৬৩ বলেই হলো জুটির সেঞ্চুরি। জুটিতে দুমিনির অবদান মাত্র ২০! ৪৭ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ উইকেটে ৩৩৯। ক্যারিয়ারে আগে একবারই দেড়শ করেছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই ইনিংসে করেছিলেন ৬৬ বলে অপরাজিত ১৬২। রান সংখ্যায় এবার সেটিকেও ছাড়িয়ে গেলেন ডি ভিলিয়ার্স।
তাসকিনের টানা তিন বলে দুই ছক্কা ও এক চারে স্পর্শ করেন ক্যারিয়ার সেরা ১৬২। ছাড়িয়ে যান মাশরাফির বলে বাউন্ডারি মেরে। ৯৯ বলে ১৬৬। এবি ডি ভিলিয়ার্সের খুনে ব্যাটিংয়ে ৪৫ ওভারেই তিনশ ছাড়িয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
বড় জুটিতে সঙ্গী আমলা বিদায় নিলেও প্রভাব নেই ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিংয়ে। দারুণ খেলেই ছুঁয়ে ফেললেন সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে তার ২৫তম। বাংলাদেশের বিপক্ষে ষষ্ঠ ইনিংসে প্রথম। ৩৪ বলে করেছিলেন অর্ধশতক। পরের পঞ্চাশেও বল লেগেছে ৩৪টি। ৬৮ বলে সেঞ্চুরি। খানিকটা মন্থর উইকেট, বাজে আউটফিল্ডে এই গতিতে সেঞ্চুরি করে আরও একবার চিনিয়েছে তার জাত।
ডি ভিলিয়ার্স যেরকম ফর্মে আছেন, তাতে বাজে বল মানে ভয়ানক শাস্তি। সেটিই পেলেন নাসির হোসেন। লোপ্পা ফুলটস করলেন, ডি ভিলিয়ার্স সেটিতে স্বাগত জানালেন বিশাল ছক্কায়। ম্যাচের প্রথম ছক্কায় জুটি স্পর্শ করল শতরান। ৮৪ বলেই হলো জুটির সেঞ্চুরি। আমলা-ডি ভিলিয়ার্স জুটির এটি ১২তম সেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি শতরানের জুটির রেকর্ড এখন এককভাবে এই দুজনের। গ্রায়েম স্মিথ ও হার্শেল গিবস জুটির শতরানের জুটি ১১টি।
ম্যাচের গতিচিত্রই যেন পাল্টে দিয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। প্রায় চার মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাট করতে নেমেই তুলেছেন ঝড়। অর্ধশতক করেছেন মাত্র ৩৪ বলেই।
উইকেটে যাওয়ার পর থেকেই দারুণ পায়ের কাজ, টাইমিং আর উদ্ভাবনী ক্ষমতা মিলিয়ে অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন ডি ভিলিয়ার্স। চাপে ফেলে দিয়েছেন বাংলাদেশের সব বোলার-ফিল্ডারকে। জোড়া উইকেটের ওভারের পর আরও একটি উইকেট পেতে পারতেন সাকিব। সেটি হতে পারত অনক বড় উইকেট। কিন্তু হলো না! স্টাম্প সোজা আর্ম ডেলিভারিতে কাট মতো করেছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ব্যাটের কানায় লেগে বল পেছনে। কিন্তু স্লিপে হাত বাড়িয়ে বল ছুঁতেই পারলেন না নাসির। দ্রুত গতিতে ছোটা বলকে হাতে জমানোর মত রিফ্লেক্স ছিল না ফিল্ডারের। বোলার সাকিবকে মনে হলো বেশ বিরক্ত। ডি ভিলিয়ার্স রক্ষা পেলেন ২ রানে। যেন দীর্ঘ খরার পর একটু বৃষ্টির ছোঁয়া! অবশেষে ওয়ানডে সিরিজে প্রথম উইকেটের দেখা পেল বাংলাদেশ। কুইন্টন ডি কককে ফেরালেন সাকিব আল হাসান।
সাকিবের বলটি একটু স্লাইড করে ঢুকেছে, লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ ডি কক। ৫ ওয়ানডে পর সাকিব পেলেন উইকেটের দেখা।
আগের ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ ডি কক এবার ফিরলেন ৪৬ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭.৩ ওভারে ১ উইকেটে ৯০। পার্লে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল ধীরগতির। দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলা দেখেশুনে খেলে ফেলেন ১০ ওভার। উদ্বোধনী জুটিতে ওঠে ৫০ রান। এক পর্যায়ে আরও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছিল এই জুটি। শতরানের একেবারে কাছাকাছি ছিল। দলীয় ৯১ রানে এই জুটি ভেঙে প্রতিরোধের দেয়াল ভাঙেন সাকিব আল হাসান। ৪৬ রানে ব্যাট করতে থাকা ডি কককে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন সাকিব। এরপর নতুন নামা ফ্যাফ ডু প্লেসিসকেও থিতু হতে দেননি তিনি। একই ওভারের (১৮) শেষ বলে ঘূর্ণিজাদুতে বোল্ড করেন প্লেসিসকে (০)। হঠাত্ ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়লেও পরে দলকে সামাল দেন ডি ভিলিয়ার্স। আমলা নিজস্ব গতিতে খেললেও তুলনামূলক আগ্রাসী ছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। অর্ধশতক তুলে নেন দুজনেই। এক পর্যায়ে শতকের কাছেই চলে যায় দুই জুটি। এর আগে অবশ্য ২০০ রান পার করে বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দেয় তারা। কিন্তু ৩৬তম ওভারে রুবেলের বলে মনোযোগ হারিয়ে বসেন ৮৫ রানে ব্যাট করতে থাকা আমলা। উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। তার ৯২ বলের ইনিংসে ছিল ৪টি চার। এই জুটিতে আসে ১৩৬ রান।
কিম্বার্লিতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পার্লে দ্বিতীয় ম্যাচে সেই পথে পা আর বাড়ায়নি। এবার শুরুতে ফিল্ডিং নিয়েছে সফরকারীরা। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনের জায়গায় দলে ঢুকেছেন তিনি। আবার প্রোটিয়া দলে চোট নিয়ে বাইরে রয়েছেন ডেভিড মিলার।
এদিকে মুশফিককে নিয়ে শুরুতে অনিশ্চয়তা থাকলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিকই খেলছেন টেস্ট অধিনায়ক। গত ম্যাচ থেকে মাত্র একটি পরিবর্তনই আনা হয়েছে বাংলাদেশ দলে। অন্যদিকে প্রোটিয়া দলের একাদশে ঢুকেছেন ফারহান বেহারদিন। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রথমটিতে জিতে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে আছে প্রোটিয়ারা। সিরিজ বাঁচাতে হলে জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। আর এই ম্যাচ জিতলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিজেদের করে নেবে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। 
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ১০ উইকেট হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ম্যাচে তাই ঘুরে দাঁড়াতে প্রত্যয়ী বাংলাদেশ। তেমনটা মনে করেন ওপেনার তামিম ইকবাল। চোটের কারণে খেলতে না পারা এই তারকা বোলারদের ভূমিকা রাখার পক্ষেই কথা বলেছিলেন ম্যাচের আগে।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক : স্বপন কুমার সাহা, নির্বাহী সম্পাদক: নজমূল হক সরকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : news.bartoman@gmail.com, bartamandhaka@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft