আবিষ্কার-পাগল মিজান
Published : Monday, 4 December, 2017 at 8:41 PM, Count : 330

আবিষ্কার-পাগল মিজানযশোর প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার মোটরসাইকেল মেকানিক মিজান অ্যাকাডেমিক কোনো শিক্ষা না থাকলেও এ পর্যন্ত ৮টি আবিষ্কার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

মিজানুর রহমান মিজান শার্শা উপজলোর নিজামপুর ইউনিয়নের আমতলা গাতিপাড়ায় ১৯৭১ সালের ৫ মে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম আক্কাস আলী ও মা খোদেজা খাতুন। তারা কেউ বেঁচে নেই। মিজান বাবা-মার ৬ সন্তানের মধ্যে পঞ্চম। বর্তমান শার্শা উপজেলা সদরের শ্যামলাগাছি গ্রামে তিনি বাস করেন। তিনি দারিদ্র্যতার কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি। ৮-৯ বছর বয়সেই বেঁচে থাকার তাগিদে মজুরের কাজে নেমে পড়েন। মাঠে শ্যালো মেশিন চালানো এবং মেরামতের কাজ করেন। পরে নাভারণ বাজারে একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে কাজ পান। সেখান থেকেই তার মোটর মেকানিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু হয়। বর্তমানে শার্শা বাজারে ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ নামে একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজ রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু করা, নতুন কিছু জানার ইচ্ছে ছিল। তবে ইঞ্জিন তৈরির প্রবল আগ্রহ ছিল। মিজান প্রথমে হাফ ক্রেনসেপ্ট দিয়ে একটি আলগা ইঞ্জিন উদ্ভাবন করেন। এই ইঞ্জিনের সব যন্ত্রপাতি বিদেশি। এ ইঞ্জিনটি একবার জ্বালানি তেল দিয়ে চালু করলে পরে আর তেল লাগতো না। ইঞ্জিনের সৃষ্ট ধোয়া থেকে জ্বালানি তৈরি করে ইঞ্জিনটি চলতো।

ঢাকার তাজরিন গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকা্লে শতাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির পর মিজান দ্বিতীয় গবেষণা করে স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র উদ্ভাবন কমরন, যা বাসা-বাড়ি, কলকারখানা, অফিস-আদালতে আগুন লাগলে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে আগুন নেভাতে শুরু করে। এটি বিদ্যুত্ না থাকলেও চলবে। এই যন্ত্রটি অল্প জায়গায় রাখা যায়। কোনো জায়গায় আগুন লাগলে যন্ত্রটি তাপমাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের মাধ্যমে আগুনের অবস্থান নিশ্চিত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম ও লাইট অন করে দেয়। তারপর একইসঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ফোন করে দেয়। পাশাপাশি যন্ত্রটি পানির পাম্পের সুইচ অন করে দেয়। যা আগুনের অবস্থান নিশ্চিতের ৫-৭ সেকেন্ডের মধ্যেই সম্ভব হয়। পরে পানির পাম্পে সংযুক্ত পাইপের মাধ্যমে আগুনের অবস্থান পৌঁছে দেয় এবং অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত ফাঁপা বলয়ের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আগুন নিভে যায়। তিনি ২০১৫ সালে মিজান যশোরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় প্রদর্শন করে প্রথমস্থান অধিকার করেন। পরবর্তী সময়ে এটি বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। দেশে পেট্রলবোমায় যখন মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল ঠিক সে সময়ে মিজান তার তৃতীয় উদ্ভাবন অগ্নিনিরোধ জ্যাকেট উদ্ভাবন করেন। এ জ্যাকেট পরে ড্রাইভার বা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরাপদে কাজ করতে পারবেন। এতে করে আগুনের মাঝে গিয়ে জানমাল রক্ষা করার সময় শরীরে আগুন স্পর্শ করবে না। তার চতুর্থ উদ্ভাবন অগ্নিনিরোধ হেলমেট। এটি ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার আগুনে গলার শ্বাসনালী পুড়বে না। তার পঞ্চম উদ্ভাবন হলো প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে মোটরকার। এটা বিদ্যুত্ বা পেট্রলচালিত।

তার ষষ্ঠ উদ্ভাবন কৃষকদের জন্য স্বয়ংক্রিয় সেচযন্ত্র। কৃষকরা দূর-দূরান্তের মাঠে জমিতে পানি দিতে আর ক্ষেতে যেতে হবে না। বাড়ি বসেই সেচযন্ত্রটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বন্ধ বা চালু করতে পারবেন। তাছাড়া যন্ত্রটি জমিতে পানির প্রয়োজন হলে নিজে নিজেই চালু হয় এবং পানির প্রয়োজন না থাকলে বন্ধ হয়ে যায়। দেশীয় প্রযুক্তিতে তার সপ্তম উদ্ভাবন ফ্যামেলি মোটরযান। ব্যবহারযোগ্য এ কার এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মিজানের অষ্টম উদ্ভাবন পরিবেশ সেফটি যন্ত্র। এটি পরিবেশ রক্ষার্থে বহুমুখী কাজ করে থাকে। যন্ত্রটি বাড়ি, অফিস বা কলকারখানায় ময়লা পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। হাতের স্পর্শ ছাড়াই যন্ত্রটি পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার হয়। এ যন্ত্রটি উদ্ভাবনের পর তিনি ২০১৬ সালের ৫ জুন জাতীয় পর্যায়ে মিজান পরিবেশ পদক লাভ করেন। জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে মিজান এ পর্যন্ত ১৭টি সাফল্য সনদ ছাড়াও অসংখ্য ক্রেস্ট ও সাফল্য পুরস্কার পেয়েছেন। এরইমধ্যে মিজানের আবিষ্কৃত দেশীয় প্রযুক্তির মোটরকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ টু আই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে ছোট ছোট অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করার পদক্ষপেও নেয়া হয়েছে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক : স্বপন কুমার সাহা, নির্বাহী সম্পাদক: নজমূল হক সরকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : news.bartoman@gmail.com, bartamandhaka@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft