বই পড়া বই কেনা বইমেলা
Published : Thursday, 8 February, 2018 at 8:18 PM, Count : 264
বই পড়া বই কেনা বইমেলাপল্লী কবি জসীমউদ্দিন বলেছেন, ‘বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক।’ জ্ঞান আর আনন্দ ছাড়া মানব জীবন নিশ্চল হয়ে পড়ে। জীবনকে সুন্দর ভাবে বিকশিত করতে হলে, সুবাসিত করতে হলে জ্ঞানার্জন করতে হবে। আর জ্ঞানার্জন করতে হলে বই পড়ার কোন বিকল্প নাই। পৃথিবীর যাবতীয় জ্ঞানের কথা যেন বইয়ের মাঝে লুকিয়ে আছে। তাই জ্ঞানের রাজ্যে প্রবেশ করতে হলে বই পড়তেই হবে। নিজেকে জানতে হলে, পৃথিবীকে জানতে হলে বই পড়তে হবে।
মনীষী লিও টলস্টয় বলেছেন, পৃথিবীতে মানুষের তিনটি জিনিস প্রয়োজন, বই, বই, বই। এফ টরুপার বলেছেন, একখানি ভালো বই শ্রেষ্ঠ বন্ধু, আজ এবং আগামীকালের জন্য। বন্ধুত্ব মানবজীবনে দুঃখ ও আনন্দের কারণ দুইই হতে পারে। কিন্তু একখানি ভালো বই এমন বন্ধু যা কখনো প্রতারণা করে না। তাই কবি ওমর খৈয়াম বেহেস্তের সরঞ্জামাদির তালিকা করতে গিয়েও বইকে রেখেছেন। আর রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ভালো বই আত্মশুদ্ধির শ্রেষ্ঠ উপায়। জ্ঞানের বাহন হিসেবে বই বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মাধ্যম।’
বইয়ের প্রতি অনুরাগ এবং জ্ঞানের আধার হিসেবে আমাদের দেশে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে মাসব্যাপি বইমেলা। অমর একুশে গ্রন্থমেলা। অমর একুশে গ্রন্থমেলা, ব্যাপকভাবে পরিচিত একুশে বইমেলা, স্বাধীন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলোর অন্যতম। প্রতি বছর পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে এই মেলা বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে ও বর্ধমান হাউস ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলা একাডেমির মুখোমুখি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এ মেলা আমাদের অহঙ্কার। এই গ্রন্থমেলার সঙ্গে মিশে আছে আমাদের প্রাণের স্পন্দন, মনের আকুতি এবং হূদয়ের অভিব্যক্তি। এই মেলার মাঝে উদ্ভাসিত হয়ে থাকে আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য। সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের উন্মেষ হচ্ছে আমাদের প্রত্যাশা। বাঙালির দেদীপ্যমান বাতিঘর মানুষের মনের অন্ধকার ঘোচাতে বই পড়া বা জ্ঞান আহরণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে প্রকাশ পেয়েছে আমাদের বইমেলা। বই কেনা আর বই পড়ার অভ্যাস অগণিত শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করেছে তা-ই নয়, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভুবন বিকশিত করতে সাহায্য করেছে। তাই বইমেলা এখন বাঙালির প্রাণের মেলায় রূপ পেয়েছে। প্রতিদিন নানা বয়সের মানুষ মেলায় আসেন। কেউ বই কিনেন, কেউ প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়ান। নতুন বইয়ের মলাট ওল্টাচ্ছেন, গন্ধ শুকছেন, প্রচ্ছদ দেখছেন। অনেক সময় পছন্দ হলে কিনছেন পছন্দের বইটি। কেউবা তুলছেন সেলফি। ফটো তুলছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে।
প্রতিদিনই নতুন নতুন বই আসছে মেলায়। এবার মেলা শুরু থেকে পর্যন্ত প্রায় ৭ শতাধিক নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে কবিতা শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এরপরই রয়েছে শিশুতোষ গ্রন্থ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে উপন্যাস এবং ছোটগল্প।
বই প্রকাশের ব্যাপারে প্রকাশকরা বলেন, মেলায় সবসময়ই প্রথম সপ্তাহেই চার ভাগের এক ভাগ বই আসে। হুমায়ুন আহমেদের পুরনো বইগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানা যায়। পার্ল পাবলিশার্স গতকাল মেলায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের শিশুতোষ বই ‘হালুম’ প্রকাশ করেছে। বইটিতে সাকিব তার ছোটবেলার বেশকিছু ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছেন।
‘সখী ভালোবাসা কারে কয়’:
কবি রাজজাকের ৫২ কবিতা নিয়ে বের হয়েছে তার প্রথম কবিতার বই ‘সখী ভালোবাসা কারে কয়’। ৩ জানুয়ারি রাতে এর মোড়ক উন্মোচন হয়েছে।
‘তোমারে চিনি না আমি’: কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদের উপন্যাস ‘তোমারে চিনি না আমি’। প্রকাশ করেছে আদর্শ। মেলায় ৩২৬, ৩২৭, ৩২৮ নম্বর স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।
২০৮ পৃষ্ঠার উপন্যাসটির দাম রাখা হয়েছে ৩৮০ টাকা। মেলায় ২৫% ছাড়ে এবং রকমারিতে ২৭% ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৭৭ টাকায়।
সালাহ উদ্দিন মাহমুদের দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বই দুটি হচ্ছে, গল্প গ্রন্থ ‘নিশিসুন্দরী’ এবং কাব্য গ্রন্থ ‘মিথিলার জন্য কাব্য’। বই দুটি প্রকাশ করেছে দোয়েল প্রকাশনী।
‘অতিরিক্ত সময়’: অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পাওয়া যাবে ৩১তম বিসিএস কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল হাদীর কবিতার বই ‘অতিরিক্ত সময়’। মেলার ৩০৬ ও ৩০৭ নম্বর স্টলে পাওয়া যাবে এই বই।
আল হাদী ভেতরগতভাবে একজন কবি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত একজন রাজনীতি সচেতন কবি।
‘নৈঃশব্দের কারুকাজ’: বৃত্বা রায় দীপার কাব্য গ্রন্থ ‘নৈঃশব্দের কারুকাজ’। বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন কামাল লোহানী।
এটি বৃত্বা রায় দীপার প্রথম কাব্য গ্রন্থ। বইটি প্রকাশ করেছে দ্যু প্রকাশন।
সাংবাদিক আবু আলীর বই: শেয়ার বাজারের খুঁটিনাটি নিয়ে এ বই।
শেয়ারবাজারে কখন এবং কীভাবে বিনিয়োগ করবেন। কীভাবে চিনবেন ভালো-মন্দ শেয়ার? কোন শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করবেন। এসব বিষয় নিয়ে দৈনিক আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার আবু আলীর লেখা একটি তথ্য নির্ভর বই ‘পুঁজিবাজারের প্রাথমিক ধারণা’। বইটি পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বই মেলায়। বইটি প্রকাশ করেছে ‘জ্যোতিপ্রকাশ।’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪০২ নম্বর জ্যোতি প্রকাশের স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি চত্বরে ৬৭ নম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্টলে এবং ৬৮ নম্বর গোল্ডেন বাংলাদেশের স্টলে পাওয়া যাচ্ছে এ বই। পাশাপাশি দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনেও বইটি পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ কীভাবে শেয়ারবাজারে ব্যবসা শুরু করবেন সে বিষয়টি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে এ বইয়ে।
আমার কবিতার খাতা: কবি সালমা হোসেনের এ বইটির পাতায় পাতায় পাঠক খুঁজে পাবেন জীবনে চেনা-অচেনা অলিগলি। কবির কাছে মনের ভাব প্রকাশের আশ্রয় হয়ে উঠেছে তার কাব্যের ভাষা। কবিতাগুলো পড়লেই তা খুব সহজে বুঝতে পারবেন পাঠক।
বইমেলায় তারকাদের বই:
প্রতি বছর অমর একুশে বইমেলায় দেখা যায় অনেক তারকার বই। এবারও অনেকেই হাজির হচ্ছেন উপন্যাস, কবিতা ও নানা স্বাদের বই নিয়ে। সেই মিছিলে যোগ দিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় কিছু তারকা।
এবারের অমর একুশে বইমেলায় চারটি বই নিয়ে আসছেন অভিনেতা আবুল হায়াত। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখেছেন তিনি। তিন বছর পর আবারও কনকচাঁপা তার লেখা নতুন একটি স্মৃতিচারণমূলক বই নিয়ে পাঠকের মাঝে হাজির হয়েছেন। এবারের বইটির নাম ‘কাটা ঘুড়ি’। ‘প্রাণের বাংলা’ নামক একটি অনলাইন পোর্টালে আবিদা নাসরিন কলির বিশেষ অনুরোধে গত দুই বছর ধরে নিয়মিত স্মৃতিচারণমূলক লেখা লিখে আসছেন তিনি।
এবারের বইমেলায় নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা এবার হাজির হচ্ছেন উপন্যাস নিয়ে। মেলায় প্রকাশ হবে ভাবনার লেখা উপন্যাস ‘গুলনেহার’। ভাবনার লেখা উপন্যাসটির মূল চরিত্র ৮৭ বছরের বৃদ্ধা গুলনেহার।  গায়িকা হিসেবে উঠে এলেও লেখালেখির অভ্যাসটা আগে থেকেই ছিল সাজিয়া সুলতানা পুতুলের। এর আগে অনেক গানের কথা নিজেই লিখেছেন। অন্যদিকে গত দুই বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার দুটি কবিতার বই। এবার তিনি এসেছেন উপন্যাস নিয়ে। এর নাম ‘একটি মনস্তাত্ত্বিক আত্মহনন ও তার পুতুলকাব্যিক প্রতিবেদন’।
শানারেই দেবী শানু কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন গত বছর। ২০১৭ সালের অমর একুশে বইমেলায় অনন্যা প্রকাশনী থেকে প্রকাশ পেয়েছিল তার প্রথম গ্রন্থ ‘নীল ফড়িং কাব্য’। যেখানে স্থান পেয়েছিল ৫৮টি কবিতা। এবার তিনি বইমেলায় নিয়ে আসছেন ‘লাল এপিটাফ’। বইটিতে থাকবে ৭০টি কবিতা।
- সাহিত্য ডেস্ক


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক : স্বপন কুমার সাহা, নির্বাহী সম্পাদক: নজমূল হক সরকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : news.bartoman@gmail.com, bartamandhaka@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft