বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
Published : Sunday, 25 October, 2020 at 2:24 PM, Count : 481

বর্তমান প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা সংকটসহ বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও সুনিশ্চিত ও জোরালো ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দেয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনও এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে রোহিঙ্গা সংকটের মতো অনেক জটিল চ্যালেঞ্জ সমাধানে জাতিসংঘকে আরও সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্ব এখনও দারিদ্র্য, ক্ষুধা, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, নিরাপত্তাহীনতা, জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যার প্রতিটির সমাধানে সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং বৃহত্তর পদক্ষেপ প্রয়োজন। আমরা জাতিসংঘের ৭৫তম বার্ষিকীর ঘোষণায় যেমন সম্মত হয়েছিলাম, আজ আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো পরস্পর সংযুক্ত এবং কেবল পুনরুজ্জীবিত বহুপক্ষীয়তার মাধ্যমেই এর সমাধান করা যেতে পারে। আমরা কেবল একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের মহামারী এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা তৈরি করতে পারি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে জাতিসংঘের সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতি ও লক্ষ্যগুলোর প্রতি তার অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই বছরটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রথম বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু বিশ্ব শান্তির প্রতি তার দ্ব্যর্থহীন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংহতির ওপর জোর দেন। বহুপক্ষীয়তার পক্ষে কথা বলেন এবং জাতীয় ও বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন উন্নয়নের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ একটি চ্যালেঞ্জিং বছর এবং ২০২০ সালের প্রথম দিক থেকে মহামারী সারাবিশ্বকে বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত করে চলেছে। এটি আমাদের সমাজ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জীবন ও জীবিকা, ব্যবসায় এবং রফতানি আয়ের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। কেবল একসঙ্গে এবং সংহতি নিয়ে কাজ করার মাধ্যমেই আমরা এ মহামারীর অবসান ঘটাতে পারি এবং এর পরবর্তী প্রভাব কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৭৫ বছরে জাতিসংঘের অনেক অর্জন রয়েছে এবং এটি স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়নের রীতিনীতি রূপদান করেছে, সংঘাত নিরসনে সহায়তা করেছে এবং মানবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে লাখো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব ৭৫ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিতি হওয়ার সময়ের চেয়ে আলাদা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে জাতিসংঘ সব দেশের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। তিনি বলেন, ভবিষ্যত গড়ার একটি সুনির্দিষ্ট ও অর্থবহ রোডম্যাপের সাহায্যে জাতিসংঘ আমাদের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ার প্রয়াসে আমাদের পথনির্দেশক হতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত হবে।  শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়বিচারের বিশ্ব গঠনের জন্য সব অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক: এ. কে. এম জায়েদ হোসেন খান, নির্বাহী সম্পাদক: নাজমূল হক সরকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Developed & Maintainance by i2soft